Wednesday, July 30, 2014

বন্ধুত্ব

মেয়ে, তোর জন্যে আজ আবার লিখছি কবিতা।
লেখা ভুলে গিয়েছিলাম, জাগিয়ে দিলি তুই।
অনেক কথা চাপা পড়েছিল নদীর বাঁকে বাঁকে,
ভাষার ফাঁকে ফাঁকে; ধুয়ে মুছে গেল সব আজ
বন্ধুত্বের চোরাস্রোতে। এই বন্ধুত্ব যেন বজায়
থাকে, কামনা করলুম অমিত্রাক্ষরে। ভেসে চলেছি
অজানার পথে, অচেনা আকাশের নীচে, অদেখা
স্রোতস্বিনীর ত্রিবেণীসঙ্গমে। কূল হারানোর অপার
আনন্দ-বেদনা বেজে চলেছে মনের বেণু-বীণে।
ভালো থাক তুই, এই কামনা করলুম সৃষ্টিকর্তা
হিরণ্যগর্ভের কাছে। দুঃখ-সুখের ছোটখাটো বেড়াগুলো
পার হয়ে যা অনায়াসে। মুক্ত হ', শুদ্ধ হ', জীবন তোর
ভরে উঠুক পরম পরিতৃপ্তিতে। শুভের সংস্পর্শে দূর হোক
অন্ধকার। গরলাধার রাত্রির শেষে বর্ষিত হোক
ত্বিষাম্পতির প্রভাতকিরণসুধা।

Thursday, July 17, 2014

অর্গল

চাইনা সহানুভূতি।
কোন দরকার নেই ভিক্ষান্নের, কাঁড়া কিম্বা আকাঁড়া।
যদি মনে করেন কৃপা করছেন, করছেন করুণা,
দয়া করে অন্য রাস্তা ধরুন, আপনার কৃপা চাইনা।
চাইনা মনোরমা ভার্যা, চাইনা রূপ-ধন-যশ-শত্রুতাপ,
চাই একটু সহমর্মিতা, একটুখানি পাশে থাকা,
দুটো চারটে ভালো কথা শুধু, হে মনোবৃত্ত্যনুসারিণি !
বন্ধু হও শুধু বান্ধবি, তোমার থেকে এর বেশি কিছুই চাওয়ার নেই
এই মন খারাপের শেষরাতে।
নিস্তব্ধ হয়ে গেছে রাস্তাঘাট,
এমনকি কুকুরগুলোও পড়েছে ঘুমিয়ে,
শ্বাপদেরা জেগে উঠেছে, খুঁজে চলেছে শিকার।
ভয় লাগছে আমার খুব, হাত ধরো তুমি,
চলো বসে থাকি ছাদে একলা হাওয়ায় যতক্ষণ সূর্য না উঠছে।

(Acknowledgement:  Closing sequence of the movie "Her" (2013) by Spike Jonze.)

যোজক

বুকের মধ্যে চেপে রাখি দুঃখ।
সকলে বলে, "রাখো চেপেচুপে"।
এদিকে দুঃখ ওঠে বেড়ে ক্রমাগত,
যন্ত্রণাকাতর পশু আছড়ায় হাত-পা।
বাড়তে বাড়তে শেষে ফেটে যায় ভিসুভিয়াস,
তখনো পারি না বলতে মুখ ফুটে।
সবাই বলে, "চেপে রাখো, রাখো চেপে,
"এই তো, আর কদিন, তার পরেই ভালো দিন আসছে,
"আসবে সত্যযুগ, সব দুঃখের হবে শেষ"।
কিন্তু সত্যি, আর কতদিন?
কেউ কি বলতে পারে?
মাঝে মাঝে বড় অসহ্য মনে হয়,
বড় অসহায় নিঃসঙ্গ মনে হয় নিজেকে, একলা লাগে খুব।
এর কি আদৌ কোন শেষ আছে? কে জানে?

অজানা

এখন কিছুই দেখার নেই, কিছুই করার নেই।
মন খারাপের বিকেল গড়িয়ে নেমেছে সন্ধ্যা অনেকক্ষণ,
শক্তি-হুমায়ুন-জীবনানন্দ-সুনীলের শায়রী শেষের পথে,
রবি ঠাকুর, তোমায় দিলাম এবারে ছুটি,
ঝলসানো চাঁদ ছিঁড়ে গেছে কুটিকুটি।
শহরের রাত, একলা পথের দুঃসহ নীরবতা,
ভুলতে না-পারা তোমার স্পর্শে ব্যথা,
বাইরে শেষ ট্রেনের আওয়াজ গিয়েছে থেমে।
দিবাহীন নিশি ধ্বস্ত প্রেমের নিষ্ফলতার গুনগুন।
বহমান এক বিপুল জনতা, সময়ের মাঝে টেনে চলা।
বন্ধুত্ব অনেক, অনেক কাজ, সময় বড়ই কম।
সবাই ব্যস্ত, সবাই একলা, সবাই অজানা সকলের।
কবিতার পাতে লিখে রাখি তার নাম।
এখন কিছুই দেখার নেই, কিছুই করার নেই।

Tuesday, March 4, 2014

চলো পালিয়ে যাই

ধূলিসাৎ জীবনের লিপিরেখা এঁকে চলে কবি,
বালি-কাঁকরে কেটে কেটে দাগ সে আঁকে ছবি।
লোকে বলে "পাগল, নিষ্কর্মা, উজবুক, ছোটলোক"।
কেউ কেউ অবজ্ঞাভরে দিয়ে যায় ছুঁড়ে চাহনি এক ঝলক।
অনেকে ঢিল মারে, কেউ দেয় থুতু, মাছি এসে উড়ে বসে জুড়ে।
পাড়ার ছেলের দল স্কুল-ফেরতা মুখ ভ্যাংচায় নাকিসুরে।
দিনের আলো পড়ে এলে আসে গার্ড, "এই, কৌন হ্যায়"!
দেখে সে টর্চের আলোয় পাগল অঘোর ঘুমায়।
লাথি মারতে মারতে তাকে নিয়ে চলে যায় অন্য চুলোয়,
যেখানে সে থাকবে আরো নিশ্চিন্তে, আরো নির্বিকার ধুলোয়।
অনেক দিন কেটে গেছে, কারোর নেই কোনো ক্ষোভ,
মলিন বিস্মৃত বিশীর্ণ জীবনের হারিয়েছে শেষ অভিযোগ,
লোকে চেয়ে চেয়ে দেখে হাসে কাঁদে গায় লাফায় এক পাগল,
সারা গায়ে জড়ানো রয়েছে তার ভারী ভারী লোহার শেকল।

(Acknowledgement:  Opening sequence of the movie "Grave of the Fireflies" by Isao Takahata)

যখন একদিন

কিছু কিছু ভালোবাসা না বলা থেকে যায়,
সন্ধ্যাকাশের রাঙা ধুলোর অধরা কুয়াশায়।
কিছু কিছু চেনাশোনা শেষ হয় অপরিচয়ে,
বেদনা শুধু থাকে জেগে অবাক বিস্ময়ে।
কাল চলে তার নিজের নিয়মে, মানে না কোন বাধা,
আশার জটিল গ্রন্থি থেকে থেকে মনে লাগায় ধাঁধা।
ফিরে ফিরে আসে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব অনাগতের বিকর্ষণে,
বুভুক্ষার নির্লজ্জ ব্যঙ্গ রূপকথা শোনায় কানে কানে।
ঝড়ে টলমল জাহাজ আছড়ে খোঁজে কূল,
উত্তাল নদীর পাড়ে যেমন এক গাছ ছিন্নমূল।
সব শেষ হয়েও পড়ে থাকে শব অসীম নগ্নতায়,
পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখা তাই একান্ত দুরাশায়।
সবাই বলে, "এগিয়ে চলো, সামনে দেখো, চেয়ো না ফিরে",
বসন্ত-পূর্ণিমার চাঁদ মুচকে হাসে আকাশজুড়ে।

(Alternative last line: বসন্ত-পূর্ণিমার চাঁদ ছড়ায় রূপো সমুদ্রতীরে।)

Wednesday, October 23, 2013

PhD Thesis of my Maternal Grandfather

Folk life and culture of Rangpur (based on the local dialect of Bengali)
- Kali Prasad Biswas

Department of Bengali, University of Calcutta, 1958.

Thesis Link

His younger brother, Subas Kanti Biswas, did his PhD in Metallurgy from University of Calcutta in 1967. The dissertation is titled "Study on the tempering characteristics of certain steels containing cobalt" (link).